ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমের ক্যারেটে লুকিয়ে ১০০ বোতল এসকাফ পাচারের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে নৌকাসহ ভারতীয় সিরাপ জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসার নতুন এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী রাসিকের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বস্তিতে ১১ নম্বর ওয়ার্ডবাসী চট্টগ্রামে ৮ মামলার পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার আরএমপির অপরাধ পর্যালোচনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রাজশাহীতে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত, শামিম সুইটসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী নগরীতে মাদক মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদন্ড রাজশাহীতে দেড় কেজি হেরোইন-সহ গ্রেফতার ১৬ রাজশাহীতে মাদকের বিস্তার: ট্রানজিট রুটে সক্রিয় চক্র, গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবি পাবনায় চালককে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করা অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার যশোরে দুই ছেলে সরকারি কর্মকর্তা, মা তুলে খান বয়স্ক ভাতা তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্ষায় ঘরের আর্দ্রতা কমাতে কোন কৌশল প্রয়োগ করলে বিদ্যুতের খরচ কমবে

এবার হরমুজের নিচের ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা আইআরজিসির

  • আপলোড সময় : ১২-০৫-২০২৬ ০৭:২১:৫৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৫-২০২৬ ০৭:২১:৫৬ অপরাহ্ন
এবার হরমুজের নিচের ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা আইআরজিসির ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে এরই মধ্যে টোলবুথ বসিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে নৌপথটির মধ্যদিয়ে যাওয়া বিদেশি জাহাজগুলো থেকে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার টোল নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এবার হরমুজ প্রণালীর নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে ফি নেয়ার পরিকল্পনা করছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইমস ইসরাইলে প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
 
খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত একাধিক গণমাধ্যম হরমুজ প্রণালীর নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলের বিশাল নেটওয়ার্কের ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। লক্ষ্য হলো, ইরানের নিয়ন্ত্রিত সমুদ্রতলে স্থাপিত এসব ক্যাবল ব্যবহারের জন্য বিদেশি অপারেটরদের কাছ থেকে ফি আদায় করা।
 
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ে ইরান, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চলতি সপ্তাহে এই আলোচনা সামনে আসে। গত ৯ মে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স ও তাসনিম। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হাতে এমন একটি বড় কৌশলগত সুযোগ রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত কাজে লাগানো হয়নি।
 
যেসব সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ফ্যালকন, জিবিআই, গাল্ফ-টিজিএন নেটওয়ার্ক। পশ্চিম এশিয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক, আর্থিক লেনদেন ও ক্লাউড ডাটা আদান-প্রদান হয়, তার বড় অংশই এসব ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফার্স ও তাসনিমের দাবি, এসব ক্যাবল এমন সমুদ্রসীমার মধ্যদিয়ে গেছে যা পুরোপুরি ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণাধীন।
 
এই দাবির আইনি ভিত্তি হিসেবে ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) তুলে ধরা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল (৩৮.৮ কিমি) প্রশস্ত। সেখানে ইরান ও ওমান উভয়ের ১২ নটিক্যাল মাইল করে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা পুরোপুরি একে অপরের সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে সমুদ্রতলের কোনো অংশই দুই দেশের এখতিয়ারের বাইরে নয় বলে তাদের দাবি।
 
তাসনিম ইউএনসিএলওএস-এর ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলেছে, জাহাজ চলাচলের জন্য ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ অধিকার থাকলেও তা সমুদ্রতলের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বাতিল করে না। সংবাদমাধ্যমটির মতে, ‘অনুমতি ছাড়া সমুদ্রতলে কোনো ক্যাবল স্থাপন করা মানে ‘পানির নিচে ইরানের ভূখণ্ড দখল’ করা, তাই এসব ক্যাবলের জন্য লাইসেন্স ও ফি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।’
 
রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে তাসনিম আরও দাবি করেছে, হরমুজকে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে দেখানো আসলে ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমের তৈরি ভুয়া বয়ান’।
 
এই পরিকল্পনার অর্থনৈতিক মডেল অনেকটা মিশরের আদলে তৈরি। তাসনিমের দাবি, সুয়েজ খালের মধ্যদিয়ে যাওয়া কেবল থেকে মিশর বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় বিদেশি অপারেটরদের ইরানের জলসীমার মধ্যদিয়ে ক্যাবল নেওয়ার জন্য প্রতি মিটার অবকাঠামো ফি ও লাইসেন্স রয়্যালটি দিতে হবে।
 
এছাড়া ইরান নিজেকে অঞ্চলের প্রধান প্রধান ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাসনিমের দাবি, এতে বর্তমানে গড়ে ৪৫ দিন লাগা মেরামত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং এটাকে তারা চাপ প্রয়োগ নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
 
আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ উভয় গণমাধ্যমই বলেছে, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো ‘হাইপারস্কেলার’ কোম্পানিগুলো ইরান-নিয়ন্ত্রিত সমুদ্রতলের ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তেহরানের হাতে এমন প্রভাব রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইনের আওতায় আনতে এবং ইরানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হতে বাধ্য করতে পারে। ‘হাইপারস্কেলার’ বলতে এমন কোম্পানিকে বোঝায়, যারা বিশাল পরিসরে ক্লাউড কম্পিউটিং, নেটওয়ার্কিং ও ডাটা স্টোরেজ সেবা দেয়।
 
ফার্স আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে, হরমুজকে ইরানের ‘ডিজিটাল শক্তির হাতিয়ার’ বানানো উচিত এবং ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ শুধু ইরানি কোম্পানির হাতেই থাকা উচিত।
 
তবে এই প্রস্তাব দ্রুতই সমালোচনার মুখে পড়ে। বিদেশভিত্তিক ইরানি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক মাসুদ সাফিরি একে ‘চরম উন্মাদনা এবং বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান’ বলে মন্তব্য করেছেন।
 
ইরানের অভ্যন্তরেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে। কট্টরপন্থি ভাষ্যকার ভাহিদ ভাহিদ ইয়ামিনপুর বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তব কি না তিনি জানেন না, তবে পশ্চিমের বিরুদ্ধে ইরানের শক্ত অবস্থানের যেকোনো ইঙ্গিতে যারা ‘ভীত ও ভারসাম্যহীন’ হয়ে পড়ছে, তাদের ‘হীনমন্যতা ও দুর্দশা’ তার নজর কেড়েছে। তিনি এসব সমালোচককে পাহলভি আমলের ‘উপনিবেশিক মানসিকতার শেষ প্রতিনিধি’ বলে আখ্যা দেন।
 
আরেক সরকারপন্থি কণ্ঠ মোস্তাফা গোরজি হরমুজের কেবলগুলোকে ‘বিশ্ব ইন্টারনেটের জুগুলার ভেইন’ বা প্রধান ধমনি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এসব ক্যাবলের কোনো ক্ষতি হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী